জন্মের পরই দেয়া হবে NID Card: জাতীয় পরিচয়পত্রে আসছে নতুন নিয়ম

জন্মের পরেই নিতে পারবে NID Card, শিশু থেকে বৃদ্ধ একটি মাত্র Unique ID ব্যক্তির সমস্ত পরিচয় বহন করবে। নতুন জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধিনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত ১২ জুন মন্ত্রিসভায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০২৩ এর খসড়াটি অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে একটি শিশু জন্মের পর থেকে আমৃত্যু পর্যন্ত একটি ইউনিক আইডির মাধ্যমে তার সমস্ত পরিচয় বহন করবে।

এটি বাস্তবায়ন হলে থাকবেনা জন্ম নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে NID Card তৈরী করার ঝামেলা। এসবের বিকল্প হবে একটি মাত্র আইডি নাম্বার, যা একজন বাংলাদেশি নাগরিক জন্ম গ্রহনের পরেই পাওয়ার অধিকার রাখবে।

জন্মের পরই দেয়া হবে NID Card

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন নতুনের খসড়া ২০২২ সালে প্রথমবারের প্রস্তাবনা করা হয়েছিলো। অবশেষে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন খসড়া ১২ জুন ২০২৩ চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন নিয়ম অনুসারে জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব পাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ।

গত ১২ জুন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০২৩ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। শিশু জন্মের পরেই একটি Unique ID Number দেয়া হবে যা অপরিবর্তিত থাকবে। নাগরিকের ভোগান্তি দূর করনের জন্য এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে মন্ত্রীপরিষদ।

ভিডিওটি খেয়াল করুন

video source: Somoy TV

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কোন ব্যক্তির বয়স ১৮ পূর্ণ হলে সেটি তাদের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করবে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট যেহেতু সুরক্ষা সেবা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত তাই আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র ও যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধিনে যায় তবে পাসপোর্ট এবং ID Card এর মধ্যে যোগসুত্র স্থাপন করা যাবে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

জাতীয় পরিচয়পত্রের নতুন আইন অনুসারে আইডি কার্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। Election Commission Bangladesh / বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নাগরিকের ১৮ বছর হলে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে।

যাদের ইতোমধ্যে আইডি কার্ড রয়েছে, নতুন নিয়ম অনুসারে তাদের আইডি কার্ডে কোন পরিবর্তন আসবে না কিংবা নতুন করে ভোটার হতে হবেনা। জাতীয় পরিচয়পত্র ধারী আগের জাতীয় পরিচয়পত্র দ্বারাই সকল সরকারি সেবা পেয়ে থাকবে। পূর্বের আইডি কার্ডের নাম্বার এবং ডাটাবেজের তথ্য অপরিবর্তিত থাকবে।

জাতীয় পরিচয় পত্রের নতুন আইন সংসদের পাশ হওয়ার পর পরই এটির কার্যক্রম শুরু হবে না। আইনে একটি বিধান রাখা হয়েছে সরকার যে কোন নির্ধারিত তারিখ থেকে এটি কার্যকর করবে। যখন থেকে এই আইন কার্যকর হবে তখন ইউনিয়ন পর্যায়ে কিংবা উপজেলা পর্যায়ে নতুন আইডি করার জন্য নিবন্ধন থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ প্রয়োজন মোতাবেক জনবল নিয়োগ করবে এবং প্রয়োজনীয় কার্যালয়ে এবং অফিস তৈরি করা হবে। এ বিষয়গুলো নিয়ে এখনই স্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি গেজেট ঘোষণার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

নতুন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে যা যা পরিবর্তন আনা হয়েছে

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠানে আনা হবে।
  • একটি নিবন্ধক অফিস থাকবে এবং একজন নিবন্ধক থাকবেন। তারাই মূলত জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধনের কাজ করবেন
  • একজন নাগরিক জন্মের পর পরই নাগরিক সনদ বা একটি ইউনিক আইডি নম্বর পাওয়ার অধিকারী হবেন। এটি জন্মের সাথে সাথে নিতে পারবেন। এই Unique ID Number টি অপরিবর্তিত থাকবে এবং এটা কোনো সময় পরিবর্তন করা যাবে না।
  • ই আইন মোতাবেক নির্বাচন কমিশনের কাজ শুধুমাত্র ভোটার তালিকা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কোন নাগরিক ১৮ বছরের বেশি হলেই নির্বাচন কমিশন এনআইডি প্রাপ্ত জনগনের তালিকা থেকে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে।

জন্মের পরই দেয়া হবে NID দেয়ার উদ্দেশ্য

বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দফায় দফায় পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমে ১৭ সংখ্যার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর দেওয়া হতো। তারপর ১৩ সংখ্যার জাতীয় পরিচয় পত্র করা হয়। বাংলাদেশের স্মার্ট আইডি কার্ড প্রচলন শুরু হওয়ার পর আইডি কার্ড এর নাম্বার ১০ সংখ্যার করা হয়েছে।

একই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্র তথ্য ১৭ সংখা, ১৩ সংখ্যা এমনকি ১০ সংখ্যার আইডি নাম্বার দিয়েও পাওয়া যায়। এই হিসেবে বলা চলে একই ব্যক্তির তিনটি ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার।

বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সব নাগরিকের একটি ইউনিক আইডি নম্বর নিয়ে ভাবছিল। একজন নাগরিককে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইডি নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়, কখনো জন্ম নিবন্ধন, কখনো এনআইডি, কখনো পাসপোর্ট ইত্যাদি। এসব আইডি ডকুমেন্টে বিভিন্ন নাগরিকের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য নিয়ে তৈরি হয় নানা জটিলতা।

তাই কোন নাগরিকের জন্মের পরই একটি নির্দিষ্ট ও Unique Identity Number দেয়া হবে যেটি হবে তার সারা জীবনের পরিচয়। এতে করে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ভুল হওয়া বা কোন জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 Comments

  1. জন্মের পর পরই এন আই ডি কার্ড দেওয়ার সরকারের উদ্যেগটি কার্যকর হয়ে গেলে! সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেমন কমে আসবে, তেমনিভাবে সরকারের প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট লাভবান হবে। সারাদেশে প্রতারণার সংখ্যা-ও অনেক কমে আসবে! রোহিঙ্গা ও বহিরাগত নাগরিকদের খুব সহজে সনাক্ত করা যাবে।

  2. আমি ২০১৮ সালে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করি এবং ২০২৩ সালে স্থানান্তর করি এখন বর্তমানে প্লাস্টিকের কার্ড, এটি কি আবার নতুন স্মার্ট কার্ড হয়ে আসবে?