সঠিক নিয়মে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করুন

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার সঠিক নিয়ম, নতুন আবেদন পূরণ করার সতর্কতা ও জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে এবং জন্ম নিবন্ধন ফি কত টাকা এসব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা ও গাইডলাইন নিয়ে আমি শ্রাবণ আছি আপনাদের সাথে।

জন্ম নিবন্ধন সনদ হচ্ছে একজন ব্যক্তির বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। একজন নাগরিকের তথ্য আইনগতভাবে সরকারি ভাবে সরকারি খাতায় লিপিবদ্ধ করাকে জন্ম নিবন্ধন বলে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ অনুসারে প্রত্যেক বাংলাদেশী নাগরিকের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

না বুঝে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করে ফেললে বা নিবন্ধন আবেদনে কোন প্রকার ভুল করে ফেললে পরবর্তী সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই সঠিক নিয়মে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা উচিত। আজ আমরা দেখব সঠিক নিয়মে এবং নির্ভুলভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার জন্য https://bdris.gov.bd/br/application সাইটে ভিজিট করে যে ঠিকানায় জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করবে তা টিক-মার্ক করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। তারপর জন্ম নিবন্ধন ফরমে নাম, জন্ম তারিখ, পিতা মাতার নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের প্রথমে শিশুর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। যার জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করা হবে তার নাম বাংলায় ও ইংরেজিতে লিখতে হবে। তার পর জন্ম তারিখের ঘরে জন্ম তারিখ (dd-mm-yyyy) এই রকম ভাবে দিতে হবে।

পিতা মাতার কততম সন্তান এটির ক্রমিক নাম্বার বাছাই করে দিতে হবে। পুরুষ না মহিলা লিঙ্গ লিখতে হবে এর পরের শুন্য স্থানে। তারপরে জন্ম স্থানের ঠিকানা সথিকভাবে ফিলাপ করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন
নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন

জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে

এখন সকল জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইন ভিত্তিক করা হয়েছে। অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে মূলত ইপিআই টিকা কার্ড / হাসপাতালের ছাড়পত্র এবং বাসা বাড়ির কর / ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ ও পিতা-মাতার একটি সচল মোবাইল নাম্বার প্রয়োজন হয়।

তাছাড়া আবেদনকারীর বয়সের উপর ভিত্তি করেও জন্ম নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের ভিন্নতা দেখা যায়। বয়স যত বেশি হবে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তত বেশি হবে।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন অনলাইনে

বয়স ০ থেকে ৪৫ দিন বয়সের শিশুর জন্ম নিবন্ধন

  • শিশুর টিকা দানের কার্ড / হাসপাতালের ছাড়পত্র
  • বাসা বাড়ির ট্যাক্স টোকেন / কর পরিশোধের রশিদ
  • অভিভাবকের সচল মোবাইল নাম্বার
  • পিতা মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (অপশনাল)
  • পিতা মাতার আইডি কার্ড (অপশনাল)

শিশুর বয়স ৪৬ থেকে ৫ বছর হলে জন্ম নিবন্ধন করতে যা যা লাগবে

  • শিশুর টিকা দানের কার্ড / হাসপাতালের ছাড়পত্র
  • পিতা মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (যদি থাকে)
  • পিতা মাতার এনআইডি কার্ড
  • বাসা বাড়ির ট্যাক্স / কর পরিশোধের রশিদ
  • পিতা-মাতা/ অভিভাবকের মোবাইল নম্বর
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

বয়স ৫ বছরের বেশি হলে

  • চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র
  • প্রথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট
  • পিতা মাতার স্থানীয় ঠিকানার কর পরিশোধের রশিদ
  • অথবা জমি বা বাড়ি ক্রয় করার দলীল বা খাজনা প্রদানের রশিদ
  • পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন কপি (যদি থাকে)
  • পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি (যদি থাকে)
  • বয়স প্রমাণের জন্য চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র (বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত এমবিবিএস বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী)

জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট এবং জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং পরামর্শ জানতে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে যুক্ত থাকুন।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার নিয়ম

আবেদন ফরম পূরণ করতে ভিজিট করুন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সরকারি অয়েবসিট https://bdris.gov.bd/br/application ব্যক্তির সাধারন তথ্য নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ ও ঠিকানা লিখে আবেদনের প্রথম ধাপ শেষ করুন। নামের ১ম ও ২য় অংশ বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাবে লিখতে হবে।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার নিয়ম আরো সহজ করার লক্ষে আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ছোট ছোট ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে। এই সহজ ধাপগুলো আনুসরণ করে খুব সহজে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সাইটে প্রবেশ

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার জন্য বাংলাদেশ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েব সাইটে ভিজিট করতে হবে। নতুন আবেদন করার লিঙ্ক হলো https://bdris.gov.bd/br/application সাইটে প্রবেশের পর যে ঠিকানায় জন্ম নিবন্ধন করতে চান সেটি বাছাই করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধনের ঠিকানা হিসেবে শিশুর জন্ম স্থান, স্থায়ী ঠিকানা অথবা বর্তমান ঠিকানার যে কোন একটি ঠিকানা নির্বাচন করা যাবে। আপনি এখানে যে ঠিকানা নির্বাচন করবেন এই ঠিকানা থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

আর যদি বাংলাদেশের বাহির থেকে দূতাবাসের আবেদন করতে চান তাহলে দূতাবাস লিখা বাছাই করুন।

নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির তথ্য প্রদান

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম পূরণ

যার জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা হবে / হচ্ছে তার ব্যক্তিগত কিছু তথ্য দিতে হবে। এখানে বেশ বড় একটি ফরম পূরণ করার জন্য পেয়ে যাবেন। নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির নামের প্রথম এবং শেষ অংশ বাংলা এবং ইংরেজিতে লিখতে হবে।

তারপর জন্ম তারিখ (dd-mm-yyyy) এই ফরমেটে লিখতে হবে। জন্ম তারিখের ঘরে ক্লিক করলেও ক্যালেন্ডার হতে জন্মের দিন সাল ও মাস বাছাই করার অপশন পেয়ে যাবেন। জন্ম তারিখ ইনপুট করার সময় একটি নোটিশ দেখতে পাবেন। বয়সের উপর ভিত্তি করে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি কাগজ পত্র লাগবে তার সেখানে উল্লেখ করা হবে।

পরিবারের কত তম সন্তান এবং পুরুষ না মহিলা তার নির্বাচন করার পর জন্ম স্থানের ঠিকানা লিখতে হবে। ঠিকানা বাছাই করার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রামের নাম ও পাড়া বা মহল্লা এমন করে আপনার বাসা/ হোল্ডিং পর্যন্ত লিখতে হবে।

যদি গ্রাম এলাকা হয় এবং আপনি আপনার বাসা নাম্বার না জেনে থাকেন তা হলে (-) ড্যাশ বসিয়ে দিতে পারেন। ফরমটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করা হয়ে গেলে পরবর্তী বাটনে চাপুন।

পিতা মাতার তথ্য

পিতা মাতার তথ্য দিয়ে জন্ম নিবন্ধন আবেদন

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন করার এই ধাপে পিতা মাতার তথ্য প্রদান করতে বলা হবে। পিতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (যদি থাকে), পিতার নাম বাংলা এবং ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে লিখতে হবে। পিতার জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার (অপশনাল) দিয়ে পিতার তথ্য পূরণ করতে হবে।

একই ভাবে মাতার তথ্য ঘরে মাতার নাম বাংলা এবং ইংরেজিতে লিখতে হবে। মাতার ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (অপশনাল) এবং আইডি কার্ডে নাম্বার দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।

বর্তমানে মাতার কিংবা পিতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আগে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে হলে প্রথমে পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন থাকতে হত। পিতা মাতার তথ্য পূরণ হয়ে গেলে আবারো পরবর্তী বাটন চাপতে হবে।

বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা তথ্য প্রদান

জন্ম নিবন্ধন ঠিকানা

আবেদনের শুরুতেই জন্ম স্থানের ঠিকানা প্রদান করা হয়েছে। এখন বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা লিখার জন্য উপরের ছবির ১ নং এর মতো কোনটি নয় বাছাই করুন।

এখন আপনার সামনে নতুন একটি ঠিকানা লিখার জন্য ফরম চলে আসবে। আবেদনের প্রথমে জন্ম স্থানের ঠিকানা যেটি দেয়া হয়েছিলো সেটি যদি স্থায়ী ঠিকানা হয় তা হলে ২ নং ছবির মত জন্ম স্থানের ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা একই লিখা টিক দিন।

বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা ও যদি একই হয় তা হলে ৩য় ছবির মত স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা টিক মার্ক করে দিলে আটোমেটিক বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা একই হয়ে যাবে।

আর ঠিকানা ভিন্ন ভিন্ন হলে আপনি নিজে থেকে পর্যায়ক্রমে দেশ, বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন / পৌর সভা এভাবে করে ঠিকানা লিখুন।

আবেদনকারীর তথ্য

আবেদনকারীর তথ্য

যিনি এই জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করছেন, তার তথ্য দিতে হবে। সাধারণত একটি শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য দায়ী ব্যক্তি হচ্ছেন পিতা, মাতা, পিতামহ, পিতামহী, মাতামহ, মাতামহী বা আইনগত অভিভাবক।

তাই শিশুর জন্ম নিবন্ধনের আবেদন তারাই করে থাকেন। তাছাড়া আপনি নিজেও নিজের জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন। নিজে আবেদন করলে নিজ সিলেক্ট করুন। অথবা, পিতা, মাতা, পিতামহ, পিতামহী ইত্যাদি সিলেক্ট করবেন।

আবেদনকারীর একটি সচল মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। আবেদন সম্পর্কিত বিভিন্ন আপডেট এই মোবাইলে মেসেজ দিয়ে জানানো হবে। চাইলে একটি ইমেইল আইডি ব্যবহার করতে পারবেন (অপশনাল)

ডকুমেন্টস আপলোড করুন

ডকুমেন্টস আপলোড

আবেদনের শেষের ধাপে ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। ছোট বাচ্চার জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার ক্ষেত্রে টিকা কার্ডের স্কেন কপি অথবা জমি বা বাড়ির ট্যাক্স প্রদানের রশিদ আপলোড করতে হবে।

চাইলে একাধিক ফাইল সংযোজন করা যাবে। তবে প্রত্যেকটি ফাইলের সাইজ 100kb এর ছোট হতে হবে। একের অধিক ফাইল সংযোজন করার জন্য সংযোজন বাটনে চাপুন।

আবেদন পত্র প্রিন্ট

জন্ম নবন্ধন আবেদন প্রিন্ট

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সম্পূর্ণ হলে আবেদন পত্রটি প্রিন্ট করে নিতে পারেন। আবেদন পত্র প্রিন্ট করা আবশ্যিক নয়। তবে আপনার এই আবেদন পত্রের নাম্বার সংগ্রহ করে রাখতে হবে। আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

নিবন্ধক কার্যালয়ে আপনার আবেদন পত্রের নাম্বার বললে অথবা আবেদনের প্রিন্ট কপি জমা দিলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুমোদন করে প্রিন্ট করে দিবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করুন

উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করলে খুব সহজে অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। তার পরেও যদি ধাপ গুলো অনুসরণ করতে সমস্যা হয় কিংবা কোথাও না বুঝে থাকেন তা হলে নিচের ভিডিওতে দেখানো নিয়মে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করুন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন

জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার পর সেটি সংগ্রহ করার জন্য আপনি যে নিবন্ধক কার্যালয় নির্বাচন করেছেন সেই ইউনিয়ন অথবা পৌরসভা থেকে সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

আপনি যদি সিটি কর্পোরেশন থেকে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করতে চান তাহলে আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে সনদ সংগ্রহ করতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে সনদ সংগ্রহ না করা হলে আবেদন আটোমেটিক বাতিল হয়ে যাবে।

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের স্বাক্ষর এবং সিল নিতে হবে। তারপর চেয়ারম্যান অথবা পৌরসভা মেয়র থেকে সিল ও স্বাক্ষর করিয়ে নিতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন ফি

শিশুর বয়স ০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত ফ্রিতে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা যায়। ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বিলম্ব নিবন্ধন ফি দেশে ২৫ টাকা, বিদেশে ১ ডলার। ৫ বছর পর করলে ফি দেশে ৫০ টাকা, বিদেশে ১ ডলার। জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য বিলম্ব ফি দেশে ১০০ টাকা, বিদেশে ২ ডলার। অন্যান্য তথ্য সংশোধন এবং বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের নকল সরবরাহের জন্য আবেদন ফি দেশে ৫০ টাকা, বিদেশে ১ ডলার।

বয়সনিবন্ধন ফি
শিশুর বয়স ০ থেকে ৪৫দিনফ্রি
৪৬ দিন থেকে ৫ বছর২৫ টাকা
বয়স ৫ বছরের বেশি হলে৫০ টাকা

জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাতিল করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাতিল করার জন্য আপনাকে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর অফিস যেখানে আবেদন করেছেন সেখানে যেতে হবে। আবেদন বাতিলের জন্য অবশ্যই আবেদনের Application ID জানতে হবে। আবেদনটি কেন বাতিল করতে চান তার কারণ দেখিয়ে আবেদন বাতিল করার জন্য অনুরোধ করুন।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার পর সেটি আনুমোদন না করা হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে তা স্বয়ংক্রীয় বাতিল হয়ে যাবে। আপনার আবেদনে ভুল হলে এবং বাতিল করতে চাইলে নিবন্ধক কার্যালয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারেন।

যদি আপনি আবেদনে কোন প্রকার ভুল করে থাকেন, আবেদনটি বাতিল করে আবার নতুনভাবে ফরম পূরণ করতে পারবেন। অফিসে গিয়ে বাতিল না করতে পারলে সেক্ষেত্রে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপর আবার আবেদন করা যাবে।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন সম্পর্কিত সচরাচর জিজ্ঞেস করা হয় এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া হলো। এই সকল উত্তর দেখে আপনার নিজের কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাতে পারেন। আর আপনার নিজের কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর এখানে যুক্ত করতে।

জন্ম নিবন্ধন ফি কত টাকা?

শিশুর বয়স ০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত ফ্রিতে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা যায়। ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বিলম্ব নিবন্ধন ফি দেশে ২৫ টাকা, বিদেশে ১ ডলার। ৫ বছর পর করলে ফি দেশে ৫০ টাকা, বিদেশে ১ ডলার।

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে কি কি লাগে?

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে মূলত ইপিআই টিকা কার্ড / হাসপাতালের ছাড়পত্র এবং বাসা বাড়ির কর / ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ ও পিতা-মাতার একটি সচল মোবাইল নাম্বার প্রয়োজন হয়।

জন্ম নিবন্ধন করতে পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন থাকতে হবে?

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েব সাইটের সর্বশেষ আপডেট আনুসারে, বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে হলে মায়ের জন্ম সনদ অনলাইন থাকার প্রয়োজন নেই। কিছু দিন পূর্বেও সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে পিতা মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন হতো।

102 thoughts on “সঠিক নিয়মে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করুন”

  1. আমি জানতে চাই ব্যাক্তিগত ভাবে অনলাইনে জন্ম সনদের আবেদন করা যাবে কি না
    পূর্বে করা যেত বর্তমানে বন্ধ আছে আমি জানতে চাই খুলবে কি না

    Reply
  2. নতুন করে জন্ম নিবন্ধন চালু হয়েছে কিনা যেটা কিছুদিন আগেও বন্ধ ছিল

    Reply
    • এখন শুধু নিবন্ধক অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা যাচ্ছে। আগের মতো যে কেউ অনলাইনে আবেদন করতে পারছে না।

      Reply
      • আমি এখনো ভোটার হয় নাই।আমার জন্ম নিবন্ধন ও অনলাইন নাই।আপনি কি আমাকে আমার আগের জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করে দিতে পারবেন

        Reply
  3. অত্যন্ত উপকারি লেখা। অসংখ্য ধন্যবাদ।
    প্রাপ্ত বয়স্কদের নিজের আবেদনে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে?

    Reply
    • পিতা মাতার আইডি কার্ডের ফটো কপি, আবেদনকারীর স্কুল সার্টিফিকেট (যদি থাকে), কর বা খাজনা পরিশোধের রশিদ।

      Reply
      • দ্বিতীয় ধাপে বাবার নামে ইংরেজিতে মাতার নাম ইংরেজিতে লিখতে গেলে কিবোর্ড আসছে না।করণীয় কি

        Reply
    • জন্ম নিবন্ধন ফি নিবন্ধক অফিসে জমা নেয়া হয়। ইউনিয়ন পরিশোধ অথবা পৌরসভা অফিসে ফি জমা দিতে হয়।

      Reply
      • আমি জানতে চাই আমার ২০০৮ সালের বিধি অনুযায়ী হাতে লিখা সঠিক ভাবে নিবন্ধন করা আছে। কিন্তু এখন অনলাইনে চেক দিলে সেম নাম্বারে দুটো ব্যাক্তির নাম আসে কেন?

        Reply
      • আমার অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করা আছে ২০১১ সালে যা শুধুমাত্র ইংরেজিতে। অনলাইনে সার্চ দিলে পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে তো ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় থাকে। আমার কি নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন আছে?

        Reply
  4. 10/01 /2000 সালে জন্ম ।
    অনলাইনে জন্ম সনদ এর আবেদন করতে চাই।
    একজন এমব ডাক্তার এর প্রত্যয়ন পত্র চায়।
    এটা কিভাবে সংগ্রহ করব?
    এমবিবিএস ডাক্তার হলেই হবে নাকি সরকারি ডাক্তার হতে হবে?

    আর ডাক্তার কি কোন পরীক্ষা করে প্রত্যয়ন পত্র দেবেন নাকি এমনিতেই?

    🙏🙏🙏🙏

    Reply
  5. আমার বাবা ও মা এর জন্ম নিবন্ধন করা নেই এই ক্ষেত্রে কি করনিয়

    Reply
    • এখন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে হয়।

      Reply
  6. আস্সালামুআলাইকুম ভাই ৩০ বসর বয়সের জন্ম নিবন্দন। কিভাবে করা যায়। আগের জন্ম নিবন্ধন অনলাইন নেই। এখন নতুন করে কিভাবে করা যাবে।

    Reply
  7. আমার ছোট বোনের জন্ম ২০০৪ সালের জানুয়ারির ১ তারিখে। এখন তার ভোটার আইডি কার্ড হইছে কিন্তু মার নাম ভুল। এখন মার নাম সংশোধন করতে গেলে জন্ম নিবন্ধন নিজের থাকা কি জরুরী এবং জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি কাগজপত্র দরকার? অনুগ্রহপূর্বক একটু জানালে ভালো হতো

    Reply
    • জন্ম নিবন্ধন করতে পিতা মাতার আইডি কার্ডের ফটোকপি, বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কাগজ এবং কর প্রদানের রশিদ প্রয়োজন হবে। আইডি কার্ড সংশোধন করতে অবশ্যই অনলাইন জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন। সাথে মায়ের আইডি কার্ডের স্ক্যান কপি (যেহেতু মায়ের নামে ভুল)

      Reply
  8. নিবন্ধক অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা হলে তা কি ডাটাবেস এ সংরক্ষিত থাকবে?

    Reply
  9. আমার ছেলের জন্য জন্ম নিবন্ধন আমি কি ঘরে বসে সব ফর্ম পূরণ করে করতে পারবো? নাকি ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে?

    Reply
  10. আপনি বলছেন যে পিতা-মাতার জন্ম সনদ অপশনাল
    কিন্তু ২০০০ সালের পরে যাদের জন্ম তাদের জন্ম সনদ করতে পিতা- মাতার জন্ম সনদ বাধ্যতা মুলক লাগে
    হয়তো আপনি ভুল বলছেন না হলে আপনি যানেন না
    সঠিক তথ্য প্রদান করার জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হলো।

    Reply
    • ধন্যবাদ আপনার পরামর্শের জন্য। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

      Reply
  11. বাবা মায়ের নাম তাদের NID card এর সাথে মিল নাই আমার সাটিফিকেট অনুযায়ী কী করা যাবেনা?? আমার NID ও certificate সেইম।

    Reply
    • আপনার ভাই বোনের আইডি কার্ডের পিতা মাতার নাম কেমন? যদি আপনাদের সবার আইডি কার্ডে পিতা মাতার নাম একই হয় তাহলে আবেদন করে সংশোধন করতে পারবেন।

      Reply
  12. আমার মেয়ের বয়স ৪। যেখানে জন্ম নিবন্ধন ফি ২৫৳ কিন্তু শুধু আমার কাছ থেকেই নয় সবার কাছ থেকেই ২০০৳ করে নেয়া হচ্ছে। এটা কি আইন সিদ্ধ? সরকারী নীতিমালা ভঙ্গের শামিল নয় কি? সরকারী কাজে নির্ধারিত মূল্য উল্লেখিত থাকার পরও অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে আমরা বাধ্য হই কেন? ফরম পূরণ ও কিছু ডকুমেন্টস প্রিন্ট করতে তারা ফরম প্রতি বাড়তি ১০০৳ নিতেই পারে। কিন্তু ২০০৳ নিবে কেন?
    ধন্যবাদ।

    আপনার কাজটি প্রশংসনীয়। পুরো বিষয়টি অনেক পরিষ্কার করে তুলে ধরা হয়েছে।

    Reply
    • আমিও আপনার কথার সাথে একমত। কিন্তু কি করার আছে? এমন অভিযোগের কারনে অনেক ইনিয়ন পরিষদ সচিবকে বদলি (ট্র্যান্সফার) করা হয়। অতিরিক্ত টাকা নেওয়াটা তারা সিন্ডিকেট করে নিয়েছে। সরকার তাদের বেতন ঠিকি দেয়।

      Reply
  13. আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া,
    আমার পিতা মারা যায় ২০০৩সালে কিন্তু তখন তার জন্ম নিবন্ধন হয় নি এখন আমার পিতার জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন আমি কি করতে পারি??

    Reply
  14. ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রে ট্যাক্স টোকেন না থাকলে করনীয় কি। অনুগ্রহ করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

    Reply
  15. জম্ন নিবন্ধন অনলাইন করা আছে কিন্তু বাংলায় English লেখা নাই।
    এর জন্য আমি ভোটের ফরম পুরোন করতে পারছিনা, এখন কি করা দরকার।

    Reply
  16. ea velit explicabo possimus quo modi velit necessitatibus ut expedita voluptatum iste amet dignissimos et accusamus dolores eligendi blanditiis. aliquid ab at ad error ut recusandae soluta praesentium nulla quia quis qui aspernatur earum quia.

    Reply
  17. টিকা কার্ড নেই শিশুর বয়স ২০ দিন, বেসরকারি মেডিকেল ছাড়পত্র দিয়ে জন্ম নিবন্ধ করা যাবে কিনা?

    Reply
  18. আমার বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন করতে চাই কিভাবে করবো জানাবেন প্লিজ??

    Reply
  19. ভাইরা কেউ জানলে বলবেন জন্ম নিবন্ধন কি ভাবে সংশোধন করব

    Reply
  20. আমার বাবার পাসপোর্ট আছে। কিন্তু আইডি কার্ড নেই। আর এটা বিদেশি অনলাইন করা। এক নাম দিয়ে করা। এখন আইডি কার্ড করতে পারছি না। এখন কি করব। যদি আমাকে সহযোগিতা করেন।

    Reply
  21. আসসালামু আলাইকুম আমি আসাদুজ্জামান আমার ঠিকানা জেলা মাদারীপুর থানা শিবচর পোস্ট মুজাফফরপুর সিকদার হাট ইউনিয়ন দ্বিতীয় খন্ড

    Reply
    • পূর্বে কোন জন্ম নিবন্ধন না থাকলে, নতুন করে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে পারবেন। পূর্বে থেকে থাকলে ডুপ্লিকেট ধরা পরবে, এটি না করে বরং সংশোধন আবেদন করুন।

      Reply
  22. যাদের নিজেদের কোনো বাড়ি-ঘর নেই, অর্থাৎ কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই এবং ভাড়া থাকেন, তাদের জন্মনিবন্ধন কীভাবে করতে হবে? কারণ, তাদের তো কোনো বাড়ির ট্যাক্সের কাগজ নেই…(অবশ্যই জানবেন)

    Reply
    • যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন সে বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের কাগজ জমা দিতে পারবেন। আরো কিছু জানতে হলে জন্ম নিবন্ধন অফিস থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

      Reply
  23. আমার জন্ম নিবন্ধন টা অনলাইন করার নিয়ম আমি অনলাইন করতে চাই

    Reply
  24. জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে আড়াইশো টাকা লাগে কেন

    Reply
  25. আমি ২০১৯ সালের ভোটার কিন্তু আমার স্লিপটা হারিয়ে গেছে। আমি আর আইডি কাট টা তুলতে পারি নাই। এখন আমি কিভাবে আইডি কাট টা তুলতে পারবো অনলাইনে। জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করা আছে

    Reply
  26. জন্ম নিবন্ধন এর সংশোধন এর আবেদন করার সময় আবেদন কারী কে ছেলে হলে পিতা, আর মেয়ে হলে মাতা হিসাবে দেখানো আছে লিখা দিচ্ছে কেন

    Reply
  27. সালামালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ বারাকাতুহু আমি জানতে চাচ্ছি যে আমার জন্ম নিবন্ধনের 15 ডিজিটের যে নাম্বার আছে এটা কিভাবে চেক করব তারা তো চেক করা যায় না আমাকে একটু জানাবেন প্লিজ

    Reply
  28. রাসেলের জন্য জন্ম নিবন্ধন কার্ড করতে চাই

    Reply
  29. আমার জন্ম নিবন্ধন এর কার্ড আগুন লেগে পুড়িয়ে গিয়েছে ঘরবাড়ি সহ এখন আমি কিভাবে কাট ফেরত পাব

    Reply
  30. আমি জন্মনী বন্ধের ভুল নাম ঠিক করার জন্য আবেদন করতে চাচ্ছি

    Reply

Leave a Comment